নতুনওপুনর্নবীকরণযোগ্যজ্বালানিমন্ত্রক

বায়ু ও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে আন্তর্জাতিক স্তরে ভারত চতুর্থ ও পঞ্চম স্থান অর্জন করেছে

Posted On: 11 DEC 2018 5:57PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ১১ ডিসেম্বর, ২০১

 

প্যারিস জলবায়ু চুক্তি কার্যকর করার লক্ষ্যে ভারত ২০৩০ সালের মধ্যে স্বচ্ছ বিদ্যুৎ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এজন্য ২০২২ সালের মধ্যে ১৭৫ গিগাওয়াট পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১০০ গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ, ৬০ গিগাওয়াট বায়ু বিদ্যুৎ এবং ১০ গিগাওয়াট জৈব বিদ্যুৎ রয়েছে। ক্ষুদ্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ৫ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ নেওয়া হবে।

এই উচ্চ মাত্রার লক্ষ্য, শক্তি নিরাপত্তা, শক্তির যথাযথ ব্যবহার ও মানোন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করাএর মাধ্যমে ভারত বিশ্বের অন্যতম সবুজ শক্তি উৎপাদনকারী দেশ হিসাবে পরিণত হবে।

২০১৮ সালের অক্টোবর মাস পর্যন্ত দেশে ৭৩ গিগাওয়াটের বেশি পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।  ২০১৮-১৯ ও ২০১৯-২০ সালে ৩০ গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ ও ১০ গিগাওয়াট বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য নিলাম ডাকা হবে। দেশে বিনা বিপদে বিনিয়োগের জন্য সরকার পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি ক্ষেত্রে উৎপাদন ও উদ্ভাবনের সঙ্গে জড়িত সম্প্রদায়কে উৎসাহিত করছে।

ভারত সামগ্রিকভাবে পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক স্তরে পঞ্চম স্তরে রয়েছে। ভারতের সৌরশক্তি নিগম পর্ষদ (এসইসিআই) ২০১৭ সালের মে মাসে সর্বনিম্ন দরে ২০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ বন্টনের জন্য নিলাম করে। এই দর ছিল ২ টাকা ৪৪ পয়লা প্রতি ইউনিট। ২০১৮ সালের জুলাই মাসে পুনরায় ৬০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ ২ টাকা ৪৩ পয়সা প্রতি ইউনিট দরে নিলাম করা হয়। সামগ্রিকভাবে গত সাড়ে চার বছরে ভারতে পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি ক্ষেত্রের ক্ষমতা প্রায় ১০৬ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৪ সালের ৩১ মার্চে এই উৎপাদন হার ছিল ৩৫.৫১ গিগাওয়াট। ২০১৮ সালের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত তা বেড়ে হয়েছে ৭৩.৩৫ গিগাওয়াট।

সরকার জাতীয় সৌর মিশনের আওতায় গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলির ক্ষমতা ২০২১-২২ সালে ১ লক্ষ মেগাওয়াট করার লক্ষ্য নিয়েছে।

দেশে সৌর পার্ক খোলা হচ্ছে। ২০১৮ সালের নভেম্বর মাস পর্যন্ত ২১টি রাজ্যের জন্য ২৬ হাজার ৬৯৪ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৪৭টি সৌর পার্ক চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর জন্য ১ লক্ষ একর জমি চিহ্নিত করা হয়েছে। মন্ত্রকের তরফে সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তির উন্নয়নের জন্য নতুন প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে।

সরকার বায়ু শক্তি ক্ষেত্রে ২০২২ সালের মধ্যে উৎপাদন বাড়িয়ে ৬০ গিগাওয়াট করার লক্ষ্য নিয়েছে। ২০১৮-১৯ ও ২০১৯-২০ আর্থিক বছরে ১০ গিগাওয়াট বায়ুবিদ্যুৎ নিলামের পরিকল্পনা রয়েছে মন্ত্রকের। ২০১৮ সালের মে মাসে ন্যাশনাল উইন্ড সোলার হাইব্রিড পলিসি জারি করা হয়। এর মূল উদ্দেশ্য হ’ল – বায়ু ও সৌর ক্ষেত্রের যথাযথ ব্যবহার।

নতুন ও পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি মন্ত্রক বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য নারকেলের মালা, তুষ, তুলোর বীজের মতো সামগ্রী ব্যবহারে গুরুত্ব দিয়েছে। ২০১৮ সালের অক্টোবর মাস পর্যন্ত সাড়ে চার গিগাওয়াটের মতো বিদ্যুৎ ক্ষুদ্র জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়।

ভারতের শক্তি পরিকাঠামোর কৌশলে শক্তি সংরক্ষণ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই সম্পর্কে যথাযথ ব্যবস্থার জন্য একটি নীতি-নির্দেশিকা জারি করা হচ্ছে। জাতীয় শক্তি সংরক্ষণ মিশন।

রান্না, বিদ্যুতায়ন, জল গরম সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে শক্তির চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে মন্ত্রক পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি ক্ষেত্র বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে। মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প এসপিভি বিদ্যুতায়ন ব্যবস্থা সহ নানান ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

নতুন ও পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি মন্ত্রক ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক সৌর জোটের প্রথম সম্মেলন আয়োজন করেছে। সকলের জন্য স্বচ্ছ ও ব্যয়সাশ্রয়ী বিদ্যুতের ব্যবস্থা করাই ভারতের অন্যতম লক্ষ্য। আন্তর্জাতিক সৌর জোটের খসড়া চুক্তিতে এখনও পর্যন্ত ৭১টি দেশ স্বাক্ষর করেছে। ২০১৮ সালের ৩ অক্টোবর আইএসএ–র প্রথম সভায় ভারত ও ফ্রান্স সহ সদস্য ৩৭টি দেশ যোগ দেয়। 

 

SSS/PM/SB



(Release ID: 1555531) Visitor Counter : 14

Read this release in: English