প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর

হিমাচল প্রদেশের ধরমশালায় জন আভার র‍্যালি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

Posted On: 17 JAN 2019 2:00PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৮

 

ভারত মাতার জয়

ভারত মাতার জয়

 

বিপুল সংখ্যায় আগত আমার প্রিয় দেবভূমির ভাই ও বোনেরা।

 

যখনই হিমাচল আসার সুযোগ পাই মনে হয় যেন নিজের বাড়িতে এসেছি। আপনজনদের মাঝে এসেছি। দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলের গ্রামে গ্রামে ঘুরে সংগঠনের কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছে। অনেক কিছু শিখেছি। আমি অত্যন্ত আনন্দিত, সেই সময় যাঁরা আমার সঙ্গে গ্রামে গ্রামে ঘুরেছেন, তহসিল এবং জেলাস্তরে সংগঠনের কাজ করেছেন, তাঁরা বিগত দু’দশকের মধ্যে আজ হিমাচলের প্রথম সারির নেতৃবৃন্দ হয়ে উঠেছেন। তাঁরা আজ হিমাচলকে উন্নয়নের নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিচ্ছেন। তাঁদের এই সাফল্য দেখে আমি কত আনন্দ পাই তা কেউ কল্পনা করতে পারবে না।

 

হিমাচল দেব-দেবীর ভূমি, দেবভূমি। মা জ্বালাজি, মা চামুণ্ডাজি, মা চিন্তপূর্ণি, ভিমাকালী, হিরম্বা দেবী – এমনই অসংখ্য দেব-দেবীর অনুভূতি এই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে। এই দেবস্থানের গ্রামগুলিতে জনজীবন সহজ এবং শান্তিময়।

 

এই দেবভূমির বীর মাতাদের সন্তানরা দেশ রক্ষার জন্য যখন কাঁধে বন্দুক নিয়ে দাঁড়ান, তখন শত্রুরা ওঁদের দেখে কেঁপে ওঠে। বীরত্ব, শৌর্য, সামর্থ্য এই মাটির বীরদের ধমনীতে প্রবাহিত। আবার সীমান্তে আত্মবলিদানের সাহস ও শৌর্যের অধিকারী এই বীর পুত্র এবং বীরাঙ্গনা মায়েরাই হিমাচলের গ্রামে-গ্রামে, বাড়িতে-বাড়িতে শান্তির দূত হয়ে ওঠেন। এরকম ভ্রাতৃত্ববোধ, ভালোবাসা আমি অনুভব করেছি যে শুধু এই বিষয়েই আমার অনেক কথা বলার ইচ্ছা হচ্ছে। শান্তির কোল থেকে যে বীরত্ব জন্ম নেয়, সেই অক্ষুণ্ণ বীরত্বই হল হিমাচলের বিশেষ পরিচয়।

 

আমি আরেকবার এখানের মাটিতে, এই হেলিপ্যাডে পা রাখতেই শান্তাজি পুরনো দিনের কথা মনে করিয়ে দেন। বলেন, এসো ভাই! এটি তোমার সেই পুরনো কাঙ্গরা। এই ধৌলিধার আজ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না। আর আমাদের এই ধর্মশালা ভারতের ক্রীড়াজগতে ইতিমধ্যেই নিজের স্থান করে নিয়েছে এত কম সময়ে এই অঞ্চলে এত উন্নয়ন হয়েছে সেজন্যে আপনাদের সকলের প্রশংসা করি।

 

এবার অত্যন্ত দ্রুত ফিরে যেতে হবে, সংসদ চলছে। কিন্তু যখনই হিমাচলের কথা ভাবি, মনে আনন্দ হয়। আর কাঙ্গরিধামের কথা তো কখনও ভোলা সম্ভব নয়। বিশেষ করে, বিয়ের মরশুমে কাঙ্গরিধাম এলাকা আনন্দধামে পরিণত হয়। এখানকার ছোলা এবং মাসকালাইয়ের ডাল, ওল কচুর সব্জি, রঙিন ভাত আর মাদরা গরম গরম পরিবেশন করা হয়। কিন্তু উপায় নেই, আজ চলে যেতে হবে।

 

একটু আগেই এখানে যে তথ্যচিত্রটি দেখানো হয়েছে, আমার খুব ভালো লেগেছে। মাত্র এক বছরের মধ্যে একটি রাজ্যে এত কাজ করা মুখের কথা নয়। নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়ে দপ্তরগুলিকে ঠিকমতো সাজাতে এবং পুরনো জগদ্দল সাফ করতেই অনেকটা সময় লেগে যায়। কিন্তু এই তথ্যচিত্রে দেখতে পেলাম, এত উদ্যোগ নিয়ে জনসাধারণের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা করা হয়েছে, সরকার গ্রামে-গ্রামে, বাড়িতে-বাড়িতে পৌঁছনোর চেষ্টা যেভাবে করেছে, সেজন্য আমি জয়রামজি এবং তাঁর টিমকে অনেক অনেক অভিনন্দন জানাই। আপনারা এত কাজ করেছেন, এবার আমার অনুরোধে আর একটা কাজ করতে পারবেন?

 

করবেন?

 

ঠিক করবেন তো?

 

আমি জানি হিমাচলের মানুষ যে প্রতিশ্রুতি দেন তা করে দেখান। আপনারা অবশ্যই আজ এখানে যে তথ্যচিত্রটি দেখেছেন, সেটিকে প্রত্যেকের মোবাইলের মাধ্যমে হিমাচলের প্রত্যেক নাগরিকের কাছে পৌঁছে দিন। এটুকু করতে পারবেন তো?

 

তাহলেই দেখবেন মানুষ বুঝতে পারবে কত বড় কাজ হয়েছে।

 

বন্ধুগণ, হিমাচল শ্রদ্ধেয় অটলবিহারী বাজপেয়ীর মধ্যে একটি অটুট সম্পর্ক ছিল। হিমাচলকে তিনি তাঁর ‘দ্বিতীয় বাড়ি’ বলতেন। যখনই সময় পেতেন, তিনি কিছু সময় হিমাচলবাসীদের সঙ্গে কাটিয়ে যেতেন। আজ হিমাচলে যে শিল্পোন্নয়নের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে তার শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে তুলেছিলেন অটলবিহারী বাজপেয়ীজি। তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করেই ভারতীয় জনতা পার্টির নেতৃত্বাধীন সরকার হিমাচলকে পর্যটন, কৃষি এবং শিল্পক্ষেত্রে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

 

একটি পুরনো প্রবাদ আছে যে পাহাড়ের জল আর পাহাড়ের যৌবন কখনও পাহাড়ের কাজে লাগে না! এই পুরনো প্রবাদটিকে ভুল প্রমাণ করার উদ্দেশ্য নিয়ে জয়রামজির নেতৃত্বে ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার কাজ করে যাচ্ছে। পাহাড়ের জল যেন এমনি এমনি প্রবাহিত হয়ে চলে না যায়, আর পাহাড়ের যৌবনকে যেন কর্মসংস্থানের জন্য দূরদেশে চলে না যেতে হয়, সেদিকে লক্ষ্য রেখে রাজ্য সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। বিশেষ করে, কর্মসংস্থানকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিভিন্ন বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ এবং দক্ষতা উন্নয়নের প্রকল্প চালু করেছে। একটু আগেই আমি এখানে এরকম একটি প্রদর্শনী দেখেছি।

 

মানবসম্পদ উন্নয়নকে হিমাচল প্রদেশ সরকার কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে, নতুন প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নির্মাণের জন্য কত সুক্ষ্মাতিসুক্ষ্ম দৃষ্টিকোণ থেকে প্রকল্প গড়ে তোলা হয়েছে তা দেখে আমি সত্যি সত্যি অত্যন্ত প্রভাবিত হয়েছি। আমি নিশ্চিত, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে আপনাদের এই প্রচেষ্টা এমন শক্তিতে পরিণত হবে যে দেশের অন্য কোন পাহাড়ি রাজ্য হিমাচলের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিঁকতে পারবে না। সেজন্যই রাজ্যের শিল্পোন্নয়নের লক্ষ্যে মাত্র এক বছরের মধ্যে এত ব্যাপক এবং দূরদৃষ্টিসম্পন্ন প্রকল্পগুলি শুরু করতে দেখে আমি হিমাচলের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ সম্পর্কে উচ্চাকাঙ্ক্ষী হয়ে উঠেছি।

 

কেউ যখন ভালো কাজ করেন, ভালোভাবে অনেক কাজ করেন, তখন আমারও মনে হয় যে তাঁর জন্য কিছু করি। দিল্লিতে পুরনো সরকারের আমলে হিমাচল পেত ২১ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসার পর আমরা হিমাচলকে এখন ৭২ হাজার কোটি টাকা দিচ্ছি। অর্থাৎ, আগের সরকারের তুলনায় ৫০ হাজার কোটি টাকা বেশি এজন্যই দেওয়া সম্ভব হচ্ছে কারণ, আপনাদের কাজের ধরণ দেখে বোঝা যাচ্ছে যে এর প্রতিটি পয়সা নতুন হিমাচল গড়ে তুলতে, উজ্জ্বল ও সমৃদ্ধ হিমাচল গড়ে তুলতে কাজে লাগবে। আপনাদের কর্মপদ্ধতির ওপর কেন্দ্রীয় সরকারের এই ভরসা রয়েছে। হিমাচলের জনগণের ওপর ভরসা রয়েছে। আর আপনারা সংখ্যাধিক্যের ভোটে যে জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব দিয়েছেন তাঁদের ওপরও ভরসা আছে। সেজন্য দূরদৃষ্টির সঙ্গে স্থায়ী উন্নয়নের স্বার্থে এই অর্থ বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে।

 

আমি যখন এ রাজ্যে সংগঠনের কাজ করতাম, তখন এই অঞ্চলের বিভিন্ন উন্নয়নকর্মের জন্য তদ্বির করতে পায়ে হেঁটে অনেক পথ অতিক্রম করে যেতে হত। কিন্তু আজ প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনার মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থা এত উন্নত হয়েছে, পরিকাঠামো এত উন্নত হয়েছে যে আমার অত্যন্ত আনন্দ হয়।

 

আমার মনে আছে আমাদের লা-স্পিতির বিখ্যাত আলু, এত ভালো ফলন হয়, কিন্তু আমার মনে আছে ভালো সড়ক যোগাযোগের অভাবে, দুর্বল সংরক্ষণ পরিকাঠামো ও পরিবহন ব্যবস্থার ফলে বাজারে পৌঁছনোর আগেই সেই আলু খারাপ হয়ে যেত। কৃষকদের পরিশ্রমের নিরিখে যতটা উপার্জন হওয়ার কথা, তার সামান্য অংশও আয় হত না। সেজন্যই আপনারা এখন যে মূল্য সংযোজনের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, আমার দৃঢ় বিশ্বাস সেগুলি নিশ্চয়ই এ রাজ্যের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জীবন বদলে দেবে, সহজ করে তুলবে।

 

বিগত দিনে আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এর মাধ্যমে কৃষকরা অত্যন্ত লাভবান হবেন - বিশেষ করে, হিমাচলের কৃষকরা। আমরা কোকা-কোলা, পেপসি, ফ্যান্টার মতো ঠান্ডা পানীয় কোম্পানিগুলিকে ডেকে বলেছি আপনারা নিজেদের উৎকর্ষ অনুযায়ী যেরকম ব্যবসা করছেন করুন, কিন্তু আমাদের একটি ছোট আবদার রাখতে হবে। আপনাদের ঠান্ডা পানীয়তে আবশ্যিকভাবে ৫ শতাংশ প্রাকৃতিক ফলের রস মেশাতে হবে। এতে যাঁরা এগুলি খাবেন, তাঁদের শরীরের কিছুটা হলেও লাভ হবে। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঠান্ডা পানীয় কোম্পানিগুলি তাদের বায়ুপুরিত জলের সঙ্গে প্রাকৃতিক ফলের রস মেশানো শুরু করলে দেশের ফল ব্যবসায়ীরা একটি বড় বাজার পেয়ে গেছেন। এই সাফল্য নতুন শিল্পপতিদেরও ঠান্ডা পানীয় উৎপাদনের ব্যবসায় নামতে উৎসাহিত করেছে। ফলে, কর্মসংস্থান বেড়েছে।

 

পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে আমরা পরবর্তী প্রজন্মের উপযোগী পরিকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে সড়কপথ, রেলপথ, বিদ্যুৎ, সৌরশক্তি উৎপাদন ইত্যাদি ক্ষেত্রে কাজ করছি। কেন্দ্রীয় সরকার এক্ষেত্রে প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে এই ছোট রাজ্যে অনেকক’টি প্রকল্পের কাজ করছে। আপনারা কল্পনা করুন, এই প্রকল্পগুলি সম্পন্ন হলে হিমাচলের জীবন কতটা উন্নত হবে।

 

কালকা-সিমলা রেলপথে যে পর্যটকরা আসেন, তাঁরা যাতে রেলপথে চলতে চলতেই এখানকার অতুলনীয় প্রকৃতিকে উপভোগ করতে পারেন, সেদিকে লক্ষ্য রেখে রেলের কামরার দেওয়ালগুলিকে স্বচ্ছ ফাইবার দিয়ে মুড়ে দেওয়া হয়েছে। এই ছোট্ট প্রচেষ্টা পর্যটনের ক্ষেত্রে কতটা পরিবর্তন আনতে পারে তা আপনারা কল্পনা করতে পারেন। প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে চারটি বড় ট্রেন লাইন পাতার কাজ চলছে। নাঙ্গাল বাঁধ-কলওয়ারা প্রকল্প, চণ্ডীগড়-ভদ্দি প্রকল্প, ভানুপল্লী-বিলাসপুর বেরি রুট প্রকল্প এবং ঊনা-হামিরপুর রুট প্রকল্প বাবদ এই ১৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে রেলপথ উন্নয়নের মাধ্যমে আধুনিক হিমাচল নির্মাণের লক্ষ্যে কাজ চলছে। পাশাপাশি, চপ্পল পরিহিত সাধারণ মানুষের বিমান যাত্রার যে স্বপ্ন আমি দেখি, তাকে বাস্তবায়িত করার জন্য হিমাচলে হেলিকপ্টার পরিষেবা উন্নয়নের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। এই লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘উড়ান’ প্রকল্পের সূত্রপাত আমি সিমলা থেকেই করেছিলাম। আমার দৃঢ় বিশ্বাস এই প্রকল্প হিমাচলের পর্যটনের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

 

আমরা জল, স্থল, আকাশ – সমস্তরকম যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে চলেছি। হিমাচলের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নির্মাণে পর্যটনকে ভিত্তি করে অনেক নতুন নতুন প্রকল্প দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে জাতীয় মহাসড়ক যোজনার কাজ চলছে।

 

আমি আগেই বলেছি, হিমাচলের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নির্মাণে পর্যটন একটি বড় অবলম্বন। পর্যটন ন্যূনতম বিনিয়োগে অধিকতম মানুষকে কর্মসংস্থান দিতে পারে। আমাদের উদ্যোগে ভারত ইতিমধ্যেই পর্যটন ক্ষেত্রে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে। আগে, বিদেশি পর্যটকরা তাজমহলের বাইরে অন্যকোন পর্যটন ক্ষেত্রকে তেমন চিনতেন না। কিন্তু এখন গোটা ভারতে এমন অসংখ্য পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠছে।

 

২০১৩ সালে আমাদের দেশে দেশি-বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা ছিল ৭০ লক্ষের কাছাকাছি। ২০১৭ সালে সেই সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ১ কোটিরও বেশি হয়েছে। অর্থাৎ, প্রায় ৪৫ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে। পর্যটক বাড়লে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পায়। ২০১৩ সালে যে পর্যটকরা এসেছিলেন, তাঁরা প্রায় ১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ করেছেন। আর ২০১৭ সালে যে পর্যটকরা এসেছেন, তাঁরা প্রায় ২৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ করেছেন। অর্থাৎ, প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর দ্বারা সাধারণ-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলি বেশি উপকৃত হয়েছে।

 

২০১৩ সালে ভারতে সরকার অনুমোদিত হোটেলের সংখ্যা ছিল বারোশ’। পরবর্তী চার বছরে তা বৃদ্ধি পেয়ে এখন সরকার অনুমোদিত হোটেলের সংখ্যা হয়েছে আঠারোশ’রও বেশি। পর্যটন ক্ষেত্রে এই সাফল্য ওয়ার্ল্ড ইকনমিক ফোরামে পর্যটনের প্রতিযোগিতামূলক র‍্যাঙ্কিং-এ ভারতকে অনেক এগিয়ে দিয়েছে। আপনারা শুনলে খুশি হবেন যে, আমরা দায়িত্ব নেওয়ার আগে এই র‍্যাঙ্কিং-এ ভারত ৬৫ নম্বর স্থানে ছিল। বিগত চার বছরে পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং নাগরিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে আস্থা বৃদ্ধির ফলে আমরা ২৫ ধাপ এগিয়ে এখন ৪০তম স্থানে পৌঁছে গিয়েছি। এই উন্নয়ন যাত্রাকে ত্বরান্বিত করতে আমরা ই-ভিসা চালু করেছি। বিদেশি পর্যটকরা এখন অনেক সহজে ভিসা পাচ্ছেন।

 

হিমাচলপ্রদেশের প্রত্যেক পরিবারের কোন না কোন সদস্য সেনাবাহিনীতে কাজ করেন। আমাদের দেশের অবসরপ্রাপ্ত সৈনিকরা বিগত ৪০ বছর ধরে ‘এক পদ এক পেনশন’-এর দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু কোন সরকার তাঁদের কথা শোনেনি। ২০১৩-১৪ সালে সাধারণ নির্বাচনের আগে প্রবল চাপের মুখে তৎকালীন সরকার অবসরপ্রাপ্ত সৈনিকদের এই দাবি মানার ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছিল। তারা এই বাবদ মাত্র ৫০০ কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করে অবসরপ্রাপ্ত সৈনিকদের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

 

আমরা দায়িত্ব গ্রহণ করার পর এ কাজে হাত দিয়ে দেখি ‘এক পদ এক পেনশন’ চালু করতে মোট অর্থের প্রয়োজন হবে ১২ হাজার কোটি টাকা। দেশের সৈনিকরা শৃঙ্খলা পরায়ণ হওয়ায় তাঁরা বিগত ৪০ বছর ধরে এই অবহেলা সহ্য করেছেন। কিন্তু আপনারাই বলুন, দেশের স্বার্থে জীবন হাতে নিয়ে যাঁরা দেশ রক্ষার কঠিন কাজ করেন, তাঁদেরকে এভাবে বিভ্রান্ত করা কি পাপ নয়?

 

আমরা দায়িত্ব গ্রহণ করার পর প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে গিয়ে যখন দেখি ১২ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন, আমরা অবসরপ্রাপ্ত সেনা প্রতিনিধিদের ডেকে বোঝাই। আমরা বলি যে একবারে পুরো টাকা দিতে পারব না। তিন-চার কিস্তিতে দেব। সৈনিক প্রতিনিধিরা আমাদের বলেন, আপনারা যে দায়িত্ব নিয়ে এই টাকা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন তাতেই আমরা খুশি। পাঁচ বছর দেরি হলেও আমদের আপত্তি নেই। আজ অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে বলতে পারছি যে আমরা ইতিমধ্যেই তাঁদের সেই বকেয়া ১২ হাজার কোটি টাকা দিতে পেরেছি।

 

ভাই ও বোনেরা, পূর্ববর্তী সরকার কৃষকদেরও এরকম বিভ্রান্ত করেছে। ২০০৮ সালে সাধারণ নির্বাচনের আগে তারা কৃষকদের ঋণ মকুবের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তখন সারা দেশে কৃষকদের ঋণ ছিল ৬ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু পরবর্তী পাঁচ বছরে তারা ঋণ মকুব করেছে মাত্র ৬০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে শুনেছি ৫২ হাজার কোটি টাকাই এমন ৩৫ লক্ষ মানুষ পেয়েছেন যাঁদের কোন ফসলের খেত ছিল না, ফসল ফলানোরও কোন সম্ভাবনা ছিল না। অর্থাৎ, ৩৫ লক্ষ ভুতুরে চাষির ঋণ মকুব হয়েছে।

 

সেই সময় কোটি কোটি টাকা কেলেঙ্কারির মাধ্যমে কৃষকদের লুন্ঠন করা হয়েছে যেগুলির খবর কোন খবরের কাগজ ছাপেনি। সিএজি-র রিপোর্ট থেকে আমরা এসব জানতে পেরেছি। আমাদের দেশে সহজ-সরল পরিশ্রমী কৃষকদের যদি কিছু দিতে না পারেন, তাহলে তাঁদের খুলে বলুন, তাঁরা আপনাদের কথা মেনে নেবেন। কিন্তু দয়া করে তাঁদের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেবেন না, তাঁদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলবেন না। কোথায় ৬ লক্ষ কোটি টাকার ঋণ, আর কোথায় ৬০ হাজার কোটি টাকা মকুব। পাঞ্জাবে গত নির্বাচনের আগে এরকম অনেক ঋণ মকুবের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারা ভোটে দিতেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত পাঞ্জাবের কৃষকদের কারোর ঋণ মকুব হয়নি। কিছুদিন আগে কর্ণাটকের নির্বাচনেও তেমনই ঋণ মকুবের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারা জিতেছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত মাত্র ৮০০ জন কৃষকের সামান্য ঋণ মকুব হয়েছে।

 

ভাই ও বোনেরা, যে কাজ করা সম্ভব নয়, শুধু নির্বাচনে জিততে সেসব প্রতিশ্রুতি দিয়ে মানুষকে বোকা বানানোর এই খেলা আর কতদিন চলবে। সত্যের ভিত্তিতে, বাস্তবের ভিত্তিতে দেশকে চালানো উচিৎ। যা করতে পারবেন, সততার সঙ্গে সেটাই করার চেষ্টা করুন। আপনাদের রাজ্যে জয়রামজির নেতৃত্বে বিগত এক বছরে যতটা কাজ হয়েছে, সেটা এই সততারই ফসল। আমরা কখনই দাবি করি না যে আমরা স্বর্ণযুগ এনে দিয়েছি। এখন প্রত্যেক ঘরের ছাদ সোনা দিয়ে বাঁধিয়ে দেব, প্রত্যেক বাড়ির বাইরে গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকবে, আমরা এরকম মিথ্যা স্বপ্ন দেখানোর চেষ্টা করি না। আমরা কাজ করার চেষ্টা করেছি, হিমাচল এর দ্বারা উপকৃত হয়েছে।

 

ভাই ও বোনেরা, হিমাচলবাসীদের ভালোবাসা কেমন হয় তা আমি জানি। একটি ঘটনার কথা বলি যেটি আমার হৃদয় স্পর্শ করেছে। গতবার যখন আমি ইজরায়েলে গিয়েছি, সেখানে একটি জায়গায় ঐতিহ্য অনুযায়ী মাথা ঢেকে যেতে হয়। যেমন আমাদের গুরুদ্বারে গেলে মাথা ঢাকতে হয়। আমার সঙ্গে একটি হিমাচলী টুপি সবসময়ই থাকে। আমি সেটি পরে ইজরায়েলে ঘুরছিলাম। টিভিতে সেই দৃশ্য দেখে আমার কাছে হিমাচল থেকে কয়েক হাজার চিঠি এসেছে। এই অপ্রত্যাশিত ভালোবাসা, এই আপনত্ব আমাকে বিহ্বল করে তুলেছিল। সেজন্য আজ অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে আপনাদের সেটা বললাম।

 

ভাই ও বোনেরা, আমি বিশ্বে যেখানেই যাই না কেন, সুযোগ পেলেই হিমাচল পর্যটনের কথা বলি। কারণ, আমি এখানকার পরিবেশ ও প্রকৃতি সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবহিত। এখানকার উন্নয়ন আমাকে অত্যন্ত আনন্দ দেয়। সেজন্য আপনাদের একজন সেবক হিসেবে কাজ করার সুযোগ পেয়ে আমি যথাসাধ্য করার চেষ্টা করি। পর্যটন উন্নয়নে পরিচ্ছন্নতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। হিমাচলবাসীদের স্বচ্ছ ভারত অভিযানের সাফল্য এ রাজ্যের পর্যটন সম্ভাবনাকে অনেকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সেজন্য আমি আপনাদের সকলকে অভিনন্দন জানাই।

 

আপনারা হিমাচলকে উন্মুক্ত স্থানে প্রাকৃতিক কর্মমুক্ত করতে সফল হয়েছেন। প্লাস্টিক বর্জনের মাধ্যমে আপনারা হিমাচলকে আরও পরিচ্ছন্ন এবং পরিবেশ-বান্ধব করে তুলেছেন। এই পরিচ্ছন্নতা হিমাচলবাসীর সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে যতটা উপযোগী, পর্যটন উন্নয়নও ততটাই কার্যকরী। পর্যটন উন্নয়নে আপনারা ধুমলজির আমল থেকে যে ‘হোম-স্টে’ অভিযান শুরু করেছেন, সেটি এখন পর্যটক মহলে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়েছে। আমাদের দলের অনেক কর্মকর্তাও এ রাজ্যে ‘হোম-স্টে’ চালিয়ে লাভবান হয়েছেন। ইতিমধ্যেই হিমাচলের মতো ছোট রাজ্যে অনলাইনের মাধ্যমে ৮০ হাজারেরও বেশি হোম-স্টে নথিভুক্ত হয়েছে। এই হোম-স্টে ব্যবস্থা হিমাচলের পর্যটন বিকাশকে অনেক আন্তরিক ও পারিবারিক ছোঁয়া দিয়ে সাফল্য অর্জন করেছে। সেজন্য আমি আপনাদের সকলকে অভিনন্দন জানাই।

 

মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী, এ রাজ্যের শিল্পপতিদের জন্য যে প্রকল্প গড়ে তুলেছেন তা কেন্দ্রীয় সরকারের এ জাতীয় প্রকল্পের সঙ্গে একটি উল্লেখযোগ্য মূল্য সংযোজন। এর মাধ্যমে হিমাচলের নবীন প্রজন্ম কর্মপ্রার্থী থেকে কর্মদাতা হয়ে উঠেছেন। রাজ্য সরকার পুরুষ শিল্পপতিদের ২৫ শতাংশ এবং মহিলা শিল্পোদ্যোগীদের ৩০ শতাংশ ছাড় দেওয়ার মাধ্যমে এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে।

 

আমার দৃঢ় বিশ্বাস, স্টার্ট-আপ-এর ক্ষেত্রে হিমাচল অদূর ভবিষ্যতেই গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য পাবে। ডিজিটাল ইন্ডিয়া, মোবাইল কানেক্টিভিটিকে ত্বরান্বিত করতে রাজ্যের সর্বত্র দ্রুতগতিতে অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক চালু করার কাজ এগিয়ে চলেছে। এর মাধ্যমে পর্যটন আরও উন্নত হবে। নবীন প্রজন্মের কর্মসংস্থানও বৃদ্ধি পাবে। কিছুদিন আগে সারা দেশের কমন সার্ভিস সেন্টারে কর্মরত নবীন প্রজন্মের মানুষদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কথা বলার সুযোগ হয়েছিল। তখন দেখেছি, হিমাচলের নবীন প্রজন্মের যুবক-যুবতীরা কত সফলভাবে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিজেদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি রাজ্যের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে চলেছে।

 

যোগাযোগ ব্যবস্থা এত উন্নত হয়েছে যে আজ সীমান্তে প্রহরারত বাড়ির ছেলেটি যখন বাবা-মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন, তখন তাঁকে একথা বলে সতর্ক করতে হয় না যে তাড়াতাড়ি কথা শেষ কর, অনেক বিল উঠছে। কারণ মায়েরা জানেন, এখন মোদী আছে। বিনামূল্যে মোবাইলে কথা বলা যায়। আজ মোবাইল ফোনের ডেটা এত সস্তা হয়েছে যে মানুষ প্রায় বিনামূল্যে মনের কথা খুলে বলতে পারেন। এখন লোকে ভাবেন ব্যাটারি ডিসচার্জ হওয়ার আগে কথা শেষ করতে হবে। হিমাচলের জীবনে এতবড় পরিবর্তন দেখে আমার মন আনন্দে ভরে যায়।

 

কৃষিতে হিমাচলের অনেক বড় সম্ভাবনা রয়েছে। আমি জয়রামজিকে বলেছিলাম এবং রাজ্যপাল মহোদয়ের প্রতিও আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ যে আপনাদের নেতৃত্বে হিমাচলে কৃষি বিপ্লব শুরু হয়েছে। আমি আপনাদের আহ্বান জানাচ্ছি হিমাচলকে দ্রুত জৈব রাজ্যে পরিণত করুন। কেউ কোন রাসায়নিক সার ব্যবহার করবেন না। আপনারা যদি রাজ্যকে জৈব রাজ্যে পরিণত করতে পারেন, তাহলে গোটা বিশ্বে আপনাদের জন্য বড় বাজার অপেক্ষা করছে।

 

আজ ভারতের একমাত্র জৈব রাজ্য হল সিকিম। হিমাচল যদি এক্ষেত্রে সফল হয়, তাহলে এ রাজ্যের কৃষকরা অত্যন্ত লাভবান হবেন। আজ আমি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে দেখিয়েছি, কিভাবে কৃষিতে পরিবর্তন আসছে। কিভাবে ‘জিরো-বাজেট ফার্মিং’ করা যেতে পারেগরু যদি দুধ না-ও দেয়, তাহলেও কিভাবে কৃষির ক্ষেত্রে উপযোগী হতে পারে।

 

ভাই ও বোনেরা, আমরা এরকম অনেক প্রকল্পের কাজ শুরু করেছি। আয়ুষ্মান ভারত ইতিমধ্যেই সফলভাবে এগিয়ে চলেছে। দরিদ্র পরিবারের সদস্যদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকার বছরে ৫ লক্ষ টাকা অবধি খরচ দেবে। হিমাচলেও এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। বিগত ১০০ দিনে ৬ লক্ষেরও বেশি মানুষ এই প্রকল্পের মাধ্যমে চিকিৎসা করিয়েছেন কিংবা করাচ্ছেন।

 

এখানে আমার একজন মায়ের সঙ্গে কথা বলার সৌভাগ্য হয়েছে। তিনি বলেছেন যে তাঁর হৃদরোগ ছিল কিন্তু তাঁর চিকিৎসার জন্য টাকা ছিল না। আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু হওয়ায় তিনি তাঁর চিকিৎসা করতে পেরেছেন এবং আজ এখানে আমার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের খুশির কথা বলতে পেরেছেন। তাঁর চেহারায় খুশির ঝলক আমার হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। ২০১৪ সালের আগে হিমাচলে ডাক্তারি পড়ার জন্য ৩০০টি আসন ছিল। বিগত চার বছরে এখন আসন সংখ্যা ৭০০ হয়েছে।

 

ভাই ও বোনেরা, হিমাচলে একদিকে উন্নয়নমুখী রাজ্য সরকার, আর একদিকে কেন্দ্রীয় সরকার। এই ডবল ইঞ্জিনের শক্তিতে এখন রাজ্যের পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। পাশাপাশি, দেশে যে অন্যায় হয়, লুন্ঠন হয়, জনগণের অর্থ ব্যক্তিগত লাভের জন্য ব্যবহার করা হয়, সেগুলির বিরুদ্ধে আমরা একটি লড়াই শুরু করেছি। আপনাদের আশীর্বাদে মোদী এই লড়াই চালিয়ে যাবে। আপনারা শুনলে অবাক হবেন – আমরা প্রত্যক্ষ সুফল হস্তান্তর শুরু করার পর জানতে পারি দেশে ৬ কোটি সুবিধাভোগী ব্যক্তির কোন অস্তিত্বই ছিল না। অর্থাৎ, হিমাচলের মোট জনসংখ্যার দশগুণ। যে মানুষের জন্মই হয়নি সরকারি খাতায় তার বিয়ে হয়েছে, সে বিধবা হয়েছে, সে বুড়ো হয়েছে অথবা দিব্যাঙ্গ হয়েছে। আর তাদের নামে ৯০ হাজার কোটি টাকা প্রতি বছর রাজকোষ থেকে বরাদ্দ করা হত। মোদী এসে এসব কিছু বন্ধ করে দিয়েছে। ৬ কোটি ভুতুড়ে নাম কেটে দিয়েছে।

 

এখন যারা দালাল, মধ্যস্বত্ত্বভোগী, তাদের তো রাগ হবেই। তাদের অনেক দোকান বন্ধ হয়ে গেছে। তারা চৌকিদারকে ভয় পেতে শুরু করেছে। চোরদের রাতের ঘুম উড়ে গেছে। কিন্তু চৌকিদারও তাদের এত সহজে ছাড়বে না। ঘুমোতেও যাবে না। সেজন্যই তাদের এত সমস্যা। কিন্তু আপনাদের আশীর্বাদে এই সমস্ত সমস্যাকে দূরে হটিয়ে দেশকে সততার পথে, লোকহিতের পথে নিয়ে যেতে আমরা কাজ করে যাব।

 

এই বিশ্বাস নিয়ে রাজ্য সরকারের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এত বিপুল সংখ্যায় উপস্থিত হওয়ার জন্য আপনাদের সবাইকে হৃদয় থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই। এত বিপুল সংখ্যায় মানুষ এখনও আসছেন। আমাকে জয়রামজি বলেছেন যে এখানে আসার পথে বেশ কয়েকজন একটি দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয়েছেন। বেশ কিছু মানুষ আহত হয়েছেন। আমি তাঁদের দ্রুত আরোগ্যলাভের জন্য প্রার্থনা করি। জয়রামজি তাঁদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে যা করার প্রয়োজন আমরা তা করব। এই মারাত্মক ঠান্ডায় আপনারা অনেকেই দু’দিন ধরে পথ চলে এখানে এসেছেন। অনেকে সারা রাত সফর করে এসেছেন। কেউ কেউ একদিন আগেই এসে পৌঁছে গেছেন। এত শীতে এত কষ্ট করে এই অনুষ্ঠানে আসার জন্য আপনাদের সবাইকে অভিনন্দন জানাই।

 

আমি চাইব যে এখান থেকে ফিরে যাওয়ার সময় আপনারা অত্যন্ত সতর্কভাবে যাবেন কারণ, হিমাচলে যে কোন সময়, যে কোন বিপর্যয় কিংবা দুর্ঘটনা অত্যন্ত স্বাভাবিক। কারোর জীবন যেন বিপন্ন না হয়। কোথাও দু’ঘন্টা বেশি অপেক্ষা করতে হলে প্রয়োজনে তা করবেন, কিন্তু সুস্থভাবে বাড়িতে যাবেন। আপনারা সবাই সুস্থ থাকলে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করলে আমরা দ্রুত হিমাচলকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারব।

 

আমার সঙ্গে বলুন,

 

ভারত মাতার জয়

ভারত মাতার জয়

ভারত মাতার জয়।

 

অনেক অনেক ধন্যবাদ।

 

CG/SB/DM



(Release ID: 1560318) Visitor Counter : 38

Read this release in: English