প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর

গুজরাটের সুরাটে নিউ ইন্ডিয়া ইয়ুথ কনক্লেভ - ২০১৯ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

Posted On: 22 FEB 2019 5:56PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ৩০ জানুয়ারি, ২০১৯

 

যে উৎসাহ এবং উদ্দীপনার সঙ্গে আপনারা সবাই আমাকে আশীর্বাদ প্রদানের জন্য বিপুল সংখ্যায় এসেছেন, সেজন্য আমি আপনাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। এখানে আসতে সামান্য দেরি হওয়ায় আমি আপনাদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। আজ সুরাটে এটি আমার চতুর্থ অনুষ্ঠান। আবার এখান থেকে ফিরে দিল্লিতে কিছু কাজও রয়েছে। আজ আপনাদের এখানে চারটি অনুষ্ঠান করে আমি ক্লান্ত হইনি। আমি এত সহজে ক্লান্ত হই না। আমাকে বলা হয়েছে যে এই প্রেক্ষাগৃহের ভেতরে যত মানুষ রয়েছেন, বাইরে তার থেকে বেশি মানুষ রয়েছেন। যাঁরা বাইরে রয়েছেন তাঁদের অসুবিধার জন্য আমি ক্ষমা চাইছি। আপনাদের কথা দিচ্ছি যে এরপর এসে বিশাল জনসভায় আপনাদের সবার সঙ্গে দেখা করব।

 

যুবসম্প্রদায়ই দেশের ভবিষ্যৎ। আজ তাঁদের উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখে আমিও নতুন উৎসাহে উদ্দীপ্ত হচ্ছি। আর আজকাল তো যুবকদের মধ্যে আলোচনা চলছে – ‘হাউ ইজ দ্য যোশ’?

 

বন্ধুগণ, দেশ দ্রুতগতিতে পরিবর্তিত হচ্ছে। যে আশা ও প্রত্যাশা নিয়ে ২০১৪ সালে আপনারা আমাকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন, আপনারা গুজরাটের জনগণ আমাকে জানতেন, আমার কাজও জানতেন। কিন্তু সারা ভারতের মানুষের জন্য আমি নতুন ছিলাম। কিন্তু আমার ওপর আপনাদের ভরসা ও বিশ্বাস দেখে গোটা দেশবাসী আমাকে বিশ্বাস করে এই দায়িত্ব দিয়েছেন।

 

আজ দেশে অনেক প্রশংসা শোনা যায়, এটা হচ্ছে, ওটা হচ্ছে ৯ কোটি শৌচাগার তৈরি হয়েছে, অনেক উন্নতি হচ্ছে, সারা পৃথিবীতে ভারতের প্রশংসা শোনা যাচ্ছে। এসবের কৃতিত্ব কার? এই কৃতিত্ব মোদীর নয়। এই কৃতিত্বের দাবিদার আপনারা, আপনাদের ভোট। এখন হয়তো আপনারা অনুভব করতে পারছেন যে একটি ভোটের কত শক্তি। আপনাদের একটি ভোট আমাকে পাঁচ বছর ধরে ছোটায়। আপনাদের একটি ভোট আমাকে দিন-রাত জেগে আপনাদের জন্য কিছু করার প্রেরণা যোগায়।  

 

সুরাট ব্যবসায়ীদের শহর। সেজন্য আপনারা হয়তো নিজেদের মতো করে ভাবছেন যে ২০১৪-য় যে বিনিয়োগ করেছেন, তার লাভ আপনারা চক্রবৃদ্ধি সুদে পেয়েছেন। ২০১৪ পূর্ববর্তী সেই দিনগুলির কথা ভাবুন। দেশ হতাশার গহ্বরে ডুবে ছিল। মানুষ ভারত ছেড়ে গিয়ে বিদেশে বসবাসের কথা ভাবছিলেন। অনেকে বলছিলেন যে এই দেশটাকে কিভাবে বাঁচানো যাবে। কি হবে এই দেশের?

 

সেজন্য আমরা দায়িত্ব পেয়ে প্রথমেই এই নেতিবাচক আবহ পরিবর্তনের চেষ্টা করেছি। দেখতে দেখতে, হতাশা আশায় পরিণত হয়েছে। আর আশা পরিণত হয়েছে বিশ্বাসে। এই আত্মবিশ্বাসই ১২৫ কোটি ভারতবাসীকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার শক্তি রাখে।

 

কিছু মানুষের স্বভাব ছিল সবকিছু নিয়ে কান্নাকাটি করা। আমি কাঁদতেও ভালোবাসি না কাঁদাতেও ভালোবাসি না। আমি স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। আমরা ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ মন্ত্র নিয়ে কাজ করি।একদিকে আমরা সম্পূর্ণ শক্তি দিয়ে পুরনো ব্যবস্থার ত্রুটিগুলি সংশোধনের চেষ্টা করছি। অন্যদিকে, নতুন ভারত গড়ে তোলার কাজ এগিয়ে নিয়ে চলেছি। আর যাঁরা বিগত ছয় – সাত দশক ধরে দেশের কথা না ভেবে শুধু নিজেদের কথা ভেবেছেন, তাঁরা আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করছেন। আমরা এ ধরণের নেতিবাচক মন্তব্যকে অগ্রাহ্য করে এগিয়ে চলেছি। নতুন ভারতে নতুন প্রাণশক্তি সঞ্চারের মাধ্যমে আপনাদের সকলের জীবন ও ব্যবসাকে সহজ করে তোলার জন্য এই সব প্রকল্প দ্রুত রূপায়িত করে চলেছি।আমাকে বলা হয়েছে যে এখানে যুবসম্প্রদায়ের কয়েকজন আমাকে কিছু প্রশ্ন করতে চান। সেজন্য আমি দীর্ঘ ভাষণ না দিয়ে তাঁদের প্রশ্ন করার জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।

 

প্রশ্ন : নমস্কার প্রধানমন্ত্রী মহোদয়। আমি একজন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার। আগে ভাবতাম এদেশে কিছু হবে না। কিন্তু আমি গত কয়েক বছরে দেশে অভূতপূর্ব পরিবর্তন অনুভব করছি। আমার প্রশ্ন হল, এই পরিবর্তন কিভাবে সম্ভব হয়েছে?

প্রধানমন্ত্রী : ধন্যবাদ। আমি সবার আগে আপনাকে অভিনন্দন জানাই যে আপনি পরিবর্তন অনুভব করেছেন। আমাদের আগে, ২০০৪-১৪ কেন্দ্রে সরকার চলত রিমোট কন্ট্রোলে। সেজন্যই একটা সর্বব্যাপী হতাশার পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। সবাই ভাবতো কিছু বদলাতে পারে না। ২০১৩-১৪-র খবরের কাগজের হেডলাইনগুলি দেখুন। প্রায়ই কোন না কোন কেলেঙ্কারির খবর প্রকাশিত হত, যেমন কয়লা কেলেঙ্কারি, ২জি কেলেঙ্কারি ইত্যাদি। বিগত সাড়ে চার বছরে এই পরিস্থিতি পাল্টেছে কিনা? তেমনই, ২৬/১১-র মুম্বাই সন্ত্রাসবাদী হামলার পর কী হয়েছিল? সারা দেশের মানুষ ও জনপ্রতিনিধিরা পুষ্পাঞ্জলি দিয়েছেন, মোমবাতি জ্বালিয়ে শোক মিছিল করেছেন, আর কী হয়েছে? আর, আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর উরির সন্ত্রাসবাদী হামলার আমরা কিভাবে জবাব দিয়েছি? সৈনিকদের রক্তের এক একটি ফোঁটা আমাদের জন্য পবিত্র। সেজন্য আমরা ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’-এর মাধ্যমে প্রতিশোধ নিয়েছি। পরিবর্তন এভাবেই আসে। কেউ কি ভাবতে পেরেছিল যে কালো টাকার বিরুদ্ধে এত বড় লড়াই সম্ভব?

 

বিমুদ্রাকরণের পর৩ লক্ষ ভুয়ো কোম্পানি বন্ধ হয়ে গেছে।একটি সত্যিকারের কোম্পানি যদি বন্ধ হয়, তাহলে প্রতিবাদে কুশপুত্তলিকা জ্বালানো হয়। কিন্তু আমরা ৩ লক্ষ কোম্পানি বন্ধ করার পরও কেউ কোন শব্দ করেনি। ইচ্ছাশক্তি থাকলে মনে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সাহস জাগে। মনে সততা এবং দেশপ্রেম থাকলে ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায়। আর সেই সিদ্ধান্ত থেকে পরিণাম অবশ্যই পাওয়া যায়। আগে খবরের কাগজ কিংবা টিভি খুলতেই কখনও মুম্বাই, কখনও দিল্লি কিংবা অযোধ্যায় বোমা বিস্ফোরণের খবর শোনা যেত। কিন্তু বিগত সাড়ে চার বছরে কাশ্মীর ছাড়া আর কোথাও এ ধরণের ঘটনা ঘটেনি। বিমুদ্রাকরণ থেকে কি লাভ হল, এই প্রশ্ন যদি সেই যুবকদের করা হয়, যাঁরা বিমুদ্রাকরণের পর গৃহ নির্মাণ করে উপকৃত হয়েছেনতাহলে যথাযথ জবাব পাওয়া যাবে। অনেক গরিব ও মধ্যবিত্তের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়েছে। বিমুদ্রাকরণের আগে রিয়েল এস্টেট ক্ষেত্রে কালো টাকার দৌরাত্ম কতটা ছিল, তা সুরাটবাসীদের বলে বোঝাতে হবে না। আজ আর কাউকে অর্থের অভাবে হতাশ হয়ে বসে থাকতে হয় না। মুদ্রা যোজনার মাধ্যমে গরিব ও নিম্ন মধ্যবিত্ত যুবসম্প্রদায়ের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়েছে। এখন আর তাঁদের পুঁজি হিসাবে ব্যাঙ্ক থেকে কোনও রকম গ্যারান্টি ছাড়া ঋণ পেতে সমস্যা হয় না। ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের মাধ্যমে ১৫ কোটিরও বেশি ঋণ মঞ্জুর হয়েছে। এর মধ্যে ৭ লক্ষ কোটি টাকা কোনও রকম গ্যারান্টি ছাড়াই মঞ্জুর করা হয়েছে। আর ৪ কোটি ২৫ লক্ষেরও বেশি মানুষ জীবনে প্রথমবার ঋণ নিয়েছেন। বিগত সাড়ে চার বছরে দেশকে আমরা নতুন ৪ কোটি ২৫ লক্ষ উদ্যোগপতি উপহার দিয়েছি।

 

এদেশে ধর্ষণ আগেও হত। কিন্তু সমাজের এই কলঙ্কের ঘটনার খবর এখনও শুনতে পাওয়া যায়। লজ্জায় মাথা নিচু হয়ে যায়, বেদনা হয়। এখন তিনদিন, সাতদিন কিংবা এগারোদিনে বিচার সম্পূর্ণ হয়ে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, সংবাদমাধ্যম ধর্ষণের খবর যতটা প্রচার করছে, ফাঁসির খবর ততটা প্রচার করছে না। ফাঁসির দণ্ডাদেশের খবর যত প্রচারিত হবে, ধর্ষণের মতো বিকৃতি সমাজ থেকে তত তাড়াতাড়ি নির্মূল করা যাবে। এ ধরণের কাজ করার আগে কেউ ৫০ বার ভাববে। আমার বলার তাৎপর্য এটাই যে দেশে এখন পরিবর্তন হচ্ছে, কারণ, দেশবাসীই এই পরিবর্তনকে স্বীকার করে নিয়েছে।

 

আমরা তো কোথাও বাসে, রেলে এমনকি প্লেনেও যাওয়ার পথে পাশের সিট খালি থাকলে সেখানে নিজেদের জিনিস রেখে দিই। যাঁর সিট, সে এসে বসতে চাইলে বিরক্ত হই। কিন্তু জনমনে যখন পরিবর্তন আসে, তখন আবহটাই বদলে যায়। আমি লালকেল্লার প্রাকার থেকে প্রদত্ত প্রথম ভাষণে অনুরোধ করেছিলাম, যাঁরা সম্পন্ন মানুষ, তাঁরা যেন রান্নার গ্যাসে ভর্তুকি ত্যাগ করেন। ঐ একটি অনুরোধে আমার দেশের ১ কোটি ২৫ লক্ষ সম্পন্ন মানুষ ভর্তুকি ত্যাগ করেছেন। তেমনই, আমার অনুরোধ মেনে ৪০-৪৫লক্ষ বয়স্ক নাগরিক রেলযাত্রায় ভর্তুকি ত্যাগ করেছেন। সাধারণ মানুষের এই মেজাজ পরিবর্তনকেই আমি দেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের গ্যারান্টি বলে মনে করি। এই আশা, এই আত্মবিশ্বাস, এই স্বপ্নের অনুকূল নীতি প্রণয়ন ও কাজ করার গতি বৃদ্ধি সরকারকে নতুন শক্তি দেয়। আগে সবাই ভাবতো যে সরকার সবকিছু করবে। কিন্তু আমরা এসে সেই ধারণাটাও বদলে দিয়েছি। আমরা মনে করি ১২৫ কোটি দেশবাসী পরিবর্তন আনতে পারেন। আমরা আপনাদের প্রতিনিধি মাত্র। দেশবাসীর আত্মবিশ্বাসই একজন মোদীর জায়গায় ১২৫ কোটি মোদীকে দেশে পরিবর্তন আনতে সাহায্য করছে। আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ।

 

প্রশ্ন : মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনাকে নতুন ভারতের স্থপতি বলা হয়। একটি সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে দুর্নীতিগ্রস্থদের বিরুদ্ধে আপনি যেভাবে প্রতিস্পর্ধী পদক্ষেপ নিয়েছেন, তার জন্য একজন ভারতবাসী হিসেবে আমার গর্ব হয়। কিন্তু আজ দুর্নীতিগ্রস্থদের মহাজোট গড়ে উঠছে। আর ভারতের ১২৫ কোটি জনগণ ২০১৯ সালে কংগ্রেসমুক্ত ভারত গড়ে তোলার জন্য অপেক্ষা করছেন। এ বিষয়ে আপনার কি বক্তব্য?

প্রধানমন্ত্রী : আপনি ঠিকই বলেছেন। একটি সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে দুর্নীতিগ্রস্থদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছি। সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসেছি বলেই দুর্নীতিগ্রস্থদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করতে পেরেছি। ধনী পরিবারের ছেলে হলে হয়তো আমিও ভয় পেতাম যে আগামীকাল আমারও কোন গোপন খাতা ফাঁস হয়ে যেতে পারে। কিন্তু তো পুরো জীবনটাই খোলা খাতা। ১৩-১৪ বছর আপনাদের মধ্যে থেকে কাজ করেছি। বিরোধীরা কখনও আঙুল তুলতে পারেনি। সেই শক্তির জোরেই আমি ভয় পাইনি। দ্বিতীয়ত, আমি মনে করি, দুর্নীতি আমাদের দেশের সকল সমস্যার মূল। ঘুণের মতো তা গোটা ব্যবস্থাকে শেষ করে দিয়েছে। সেজন্য ভাবছিলাম, কোথা থেকে শুরু করি? আমি ওপর থেকেই শুরু করেছি। আপনারা ভাবুন, সাধারণ মানুষ একটি পরিবারের চার প্রজন্মের কারোর নাম উচ্চারণ করতে ভয় পেত। ঐ পরিবারের ক্ষমতা এতই ছিল যে একটা সময় ১৮ মাস ধরে গোটা দেশটাকেই জেলখানা বানিয়ে দিয়েছিল। কেউ ভাবেনি যে এই চার প্রজন্ম ধরে ক্ষমতাসীন পরিবারকে এক চা-ওয়ালা চ্যালেঞ্জ জানাবে। আর আপনারা কি জানেন যে সেই পরিবারের মহারথীকে এখন জামিনে থাকতে হচ্ছে। তাঁকে ও তাঁর সঙ্গী-সাথীদের এখন প্রায়ই আদালতের চক্কর কাটতে হচ্ছে। আর আমার দৃঢ় বিশ্বাস, তাঁরা যতই চক্কর কাটুক না কেন, একদিন তাঁদের কারান্তরালে যেতেই হবে।

 

দেশের সাধারণ মানুষকে তাঁরা যেভাবে লুন্ঠন করেছে, তার ফল তাঁদের ভুগতেই হবে। এর আগেও অনেকে দেশে বেইমানি করে, অনেকের অর্থ তছরূপ করে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। কিন্তু তারপর তাদের কিছু হয়নি। কিন্তু আমরা এমন আইন প্রণয়ন করেছি যে বিশ্বের যেখানেই তারা থাকুক না কেন, তাদের দেশের সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে বিদেশ থেকে তাদের খুঁজে বের করে আনব। যুদ্ধ এভাবেই লড়তে হয়। দেশবাসীর আশা, আত্মবিশ্বাস এবং স্বপ্নের অনুকূল নীতি প্রণয়ন ও কাজ করার গতি বৃদ্ধি সরকারকে নতুন শক্তি দেয়। আর আপনি নির্বাচন নিয়ে যে প্রশ্ন করেছেন, আপনার কি মনে হয়। দেখুন, জনগণই ঈশ্বরের রূপ। কংগ্রেসমুক্ত ভারত হওয়ার মানে বিগত ৭০ বছর ধরে তারা দেশে যত ভুল কাজ করেছে, তা থেকে দেশকে মুক্তি প্রদান করা। পরিবারতন্ত্র, জাতপাত, দুর্নীতি এবং স্বজনপোষণের রোগ থেকে দেশকে মুক্ত করা। আর সেজন্য আমাদের একটিই মন্ত্র রয়েছে – ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’

 

প্রশ্ন : নমস্কার স্যার। আমি আইনের ছাত্র। গত কয়েক বছর ধরে রাজনীতি নিয়ে ফেলো করছি। আমি দেখেছি, ২০১৪ সালে যারা আপনার পরাজয় চেয়েছিল, তারাই আজ সংবাদমাধ্যমে ভুল বার্তা দিয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। আমাদের দেশ যখন বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শক্তি হয়ে উঠতে যাচ্ছে, আমাদের দেশ যখন বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শক্তি হয়ে উঠতে যাচ্ছে

প্রধানমন্ত্রী : আপনি গুজরাটিতে বলুন। আপনার প্রশ্ন আমি বুঝতে পেরেছি।

প্রশ্ন :আমি বলতে চাই, যারা দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করতে চাইছে, আমাদের দেশ যখন উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছে, তখন যারা আমাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতকে বিনষ্ট করতে চাইছে, তখন আমাদের মতো দেশের নাগরিকদের জন্য আপনার বার্তা কী? বন্দে মাতরম্‌।

প্রধানমন্ত্রী : আপনার এই ভাবনার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাই। এটা ঠিক যে ২০১৩-১৪ সালে একটা গোষ্ঠী সারা ভারতে এটা প্রচার করছিল যে বিজেপি মোদীকে নেতা ঘোষণা করেছে। তাই এখন বিজেপি-ই নির্মূল হয়ে যাবে। গুজরাটিরা ছাড়া মোদীকে কে জানে? মোদী এই, মোদী সেই। বিজেপি কখনও সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না। কিন্তু তাদের কোন ভবিষ্যদ্বাণী ফলেনি। কিন্তু আমরা এরকম কোন নেতিবাচক প্রচারে বিশ্বাস করি না। আমরা জনগণের কাছে সততা ও সঠিক তথ্য নিয়ে যাব। আর ওরা এক জায়গায় বললে, আমরা একশো জায়গায় বলব। যারা আমাকে পচ্ছন্দ করতেন না, তারা তো এখনও আছেন। তারপরও আমি অনেক শত্রু তৈরি করেছি। আপনারাই বলুন যে ৩ লক্ষ কোম্পানিকে তালা লাগিয়েছি, তারা কি কখনও মোদী জিন্দাবাদ বলবে। আমাদের দেশে যে রেশনের দোকান আছে, সাধারণ গরিব মানুষের জন্য সরকার ৩০-৩৫ টাকা কেজি হিসেবে শস্য কিনে ঐ রেশন দোকানের মাধ্যমে ৩ টাকা বা ২ টাকা কেজি দামে বিক্রি করে। কিন্তু দুর্নীতিগ্রস্থরা সেখান একটা বড় অংশ লুন্ঠন করত। আমরা রেশন কার্ড ডিজিটাইজেশন করার পর দেখলাম, দেশে ৬ কোটি এমন মানুষের রেশন কার্ড রয়েছে যাদের অস্তিত্বই নেই। আমরা সেই কার্ডগুলিকে বাতিল করেছি। এখন এই কার্ডগুলির মাধ্যমে যারা জনগণকে লুন্ঠন করত, তারা কি মোদীকে পচ্ছন্দ করবে? কিন্তু আমি ভয় পাই না। আমরা ইতিবাচকভাবে সততা ও পবিত্রার সঙ্গে কাজ করে গিয়েছি। আপনারা যদি ইতিবাচকভাবে জনগণের কাছে তথ্য পৌঁছে দিতে চান, তাহলে আপনারা ‘নমো অ্যাপ’ ব্যবহার করুন। নিজেদের ফোনে ডাউনলোড করুন। সেখানে আমাদের গত সাড়ে চার বছরের প্রত্যেক মিনিটের কাজে তথ্য রয়েছে। তার মধ্য থেকে আপনাদের যা ঠিক মনে হয়, সেগুলি আপনাদের বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজনদের ফরওয়ার্ড করুন। দেখুন, কিভাবে দেশে ইতিবাচক পরিবেশের পরিধি বৃদ্ধি হয়।

 

প্রশ্ন : মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নমস্কার। আপনি আমাদের মতো যুবসম্প্রদায়ের কাছে প্রেরণার উৎস। আপনি এরকম অনেক কাজ করেছেন যার জন্য ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আপনাকে ধন্যবাদ জানাবে। বিমুদ্রাকরণ থেকে শুরু করে জিএসটি, মানুষ এখন এগুলির মূল্য বুঝতে পারছেন। কিন্তু একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট হিসেবে আমি বলতে চাই যে এগুলির মাধ্যমে সাধারণ দেশবাসী অনেক উপকৃত হয়েছেন। আমার প্রশ্ন হল, আপনি ভোটব্যাঙ্কের পরোয়া না করে এই পদক্ষেপগুলি কেমনভাবে নিয়েছেন? জয় হিন্দ!

প্রধানমন্ত্রী : এর জবাব অনেক সহজ। ১২৫ কোটি ভারতবাসীর আশীর্বাদ আমার সঙ্গে আছে তাই করতে পেরেছি। দেখুন, সমাজ জীবনে ভারত আজ এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে আমাদের এখন কোন সুযোগ হাতছাড়া করা উচিৎ নয়। আমরা যখন সরকারের দায়িত্ব নিয়েছি তখন বিশ্বে ভারত দশম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ছিল। আর এই চার বছরের মধ্যে আমরা দেশকে ষষ্ঠ স্থানে নিয়ে আসতে পেরেছি। আর সেদিন দূরে নেই যে আপনারা শুনতে পাবেন, ভারত পঞ্চম স্থানে পৌঁছে গিয়েছে। আমরা কিভাবে বিশ্বের এতগুলি সমৃদ্ধ দেশকে পেছনে ফেলে এগিয়ে আসতে পেরেছি। আজ আমরা গর্বের সঙ্গে বলতে পারি যে বিশ্বের সবচাইতে উঁচু মূর্তি আমাদের দেশে আছে। বিশ্বের দীর্ঘতম রেল এবং রোড-ব্রিজ আমাদের সরকারের শাসনকালে উদ্বোধন হয়েছে। ২০১৪-য় দেশে ৩৮ শতাংশ পরিচ্ছন্নতা ছিল, শৌচালয় ছিল, আর আজ ৯৮ শতাংশ হয়েছে। ৫০ শতাংশ মানুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ছিল না। আজ দেশের প্রায় সমস্ত নাগরিকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট হয়েছে। একটি আন্তর্জাতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে বিশ্বে যত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে, তার অর্ধেক শুধু ভারতে কেনা হয়েছে। আমি জানি যে দেশবাসী আমাকে ঘুমিয়ে থাকার জন্য প্রধানমন্ত্রী করেনি। আয়েস করার জন্য পাঠায়নি। আমি তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী পরিশ্রম করি, ২৪ ঘন্টা কাজ করি, আর দেশের জন্য কোন কাজ করতে পিছিয়েও থাকব না।

 

প্রশ্ন : নমস্কার প্রধানমন্ত্রী মহোদয়। আমার নাম শিখা। একজন শিল্পী হিসেবে আমার একটা ছোট্ট প্রশ্ন। আপনি এত পরিশ্রম করে এত প্রকল্প চালু করেছেন, আপনার দৃষ্টিতে ভবিষ্যতের ভারত কিরকম হবে?

প্রধানমন্ত্রী : ভারতের ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল। আপনারা হয়তো লক্ষ্য করছেন, সারা পৃথিবী এখন ভারতের প্রশংসা করছে। আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা – সর্বত্র কান পাতলেই ভারতের গৌরব গান শুনতে পাবেন। এত কম সময়ে আমরা বিশ্বে ভারতের অধিকার স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছি। এই অধিকার আমাদের আগেও ছিল। কিন্তু সেটাকে প্রতিষ্ঠিত করার প্রচেষ্টাও কেউ কখনও করেনি। এখন আমরা আমাদের একটি অনুরোধে বিশ্বের প্রায় সমস্ত দেশ আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালনের জন্য তৈরি হয়ে যায়। সেজন্য আমাদের গর্ব হওয়া উচিৎ কিনা? ইজরায়েল এবং প্যালেস্তাইন পরস্পরের সঙ্গে দীর্ঘকাল ধরে যুদ্ধ করে যাচ্ছে। কিন্তু উভয় দেশই আমাদের বন্ধু। এটা আমাদের জন্য গর্বের বিষয় কিনা? ইরান এবং সৌদি আরবের মধ্যে বৈরী রয়েছে, কিন্তু উভয় দেশই আমাদের বন্ধু। এটা আমাদের জন্য গর্বের বিষয় কিনা? তেমনই আর্থিক ক্ষেত্রেও আমরা নিজেদের জায়গা তৈরি করে এগিয়ে চলেছি। যে দেশের জনসংখ্যার ৬৫ শতাংশ ৩৫ বছর বা তার কম বয়সী, অর্থাৎ, ৮০ কোটিরও বেশি যুবসম্প্রদায়ের প্রাণশক্তিতে আমরা বলীয়ান। সেই দেশ কেন পিছিয়ে থাকবে? আমরা সেই শক্তিকে অনুভব করে দেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য স্টার্ট-আপ প্রকল্পগুলিকে উৎসাহ যুগিয়েছি। দক্ষতা উন্নয়ন করিয়েছি। ফলে, বিশ্বে পরিষেবা ক্ষেত্রে ভারতের অবদান বাড়ছে। কৃষিতে ভারত স্বনির্ভর হয়েছে। দুগ্ধ উৎপাদনে আমরা এখন বিশ্বে ১ নম্বর। সহজে ব্যবসা-বাণিজ্য করার সুবিধায় ১৪২তম স্থান থেকে ৭৭তম স্থানে পৌঁছে গিয়েছি। আর বিশ্বের সবচাইতে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলা অর্থনীতির দেশগুলির মধ্যে ভারত প্রথম স্থান অর্জন করেছে। এই সমস্ত বিষয় আমাদের চিন থেকেও বেশি প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের গন্তব্য করে তুলেছে। সারা পৃথিবীতে একটি আস্থার পরিবেশ গড়ে উঠেছে। এই প্রেক্ষিত থেকেই আমি বলতে পারি যে আমার দেশের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। ৮০ কোটি যুবক-যুবতীরাই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তাঁদের শুভেচ্ছা জানাই।

 

প্রশ্ন : নমস্কার প্রধানমন্ত্রী মহোদয়। আমি আর.জে.বিশ্রুতি। রেড এফএম-এ প্রভাতী অনুষ্ঠানের সঞ্চালক। অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে বলতে চাই যে এই প্রথম দেশ এমন এক নেতা পেয়েছে, যার নবীন অনুগামীর সংখ্যা বেশি। প্রতিদিন প্রভাতী অনুষ্ঠানে আমাকে অনেক নবীন প্রজন্মের মানুষ এবং ছাত্রছাত্রীরা আমাকে বলে যে তারা টিভির রাজনৈতিক তর্ক-বিতর্ক শুনে তারা বিভ্রান্ত। এরকম অনেকেই প্রথমবার ভোট দেবেন যারা এই বিভ্রান্তির শিকার। আপনি সেই নবীন ভোটারদের উদ্দেশ্যে কী বলতে চান?

প্রধানমন্ত্রী : একথা সত্যি যে আমাদের দেশে গণতন্ত্রের ভিত অত্যন্ত শক্তিশালী। আমাদের গণতন্ত্র অত্যন্ত সংবেদনশীল। কিন্তু আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলির মানসিকতা এখনও পুরনো। বিতর্ক হওয়া উচিৎ উন্নয়ন নিয়ে। সাধারণ মানুষের আশা, আকাঙ্ক্ষা, প্রত্যাশা নিয়ে। রেল, সড়কপথ, বিদ্যুৎ, পানীয় জল, সেচের জল – এইসব কিছু নিয়ে আলোচনা না করে, অন্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করলে মানুষ তো বিভ্রান্ত হবেই। কিন্তু তাঁদের তো আর কোন পথ নেই। তাঁরা যদি কৃষি নিয়ে কথা বলেন, তাহলে পরিসংখ্যান বলবে যে আমরা আগের তুলনায় কৃষিতে অনেক বেশি সাফল্য পেয়েছি। তাঁরা যদি কর্মসংস্থান নিয়ে কথা বলেন তাহলেও একই প্রবণতা দেখা যাবে। অনেক নতুন নতুন প্রকল্প গড়ে উঠেছে, কর্মসংস্থান হয়েছে, সেজন্য তাদের আলোচনার বিষয় ব্যক্তিকেন্দ্রিক। ঘুম থেকে ওঠার পর আবার ঘুমোতে যাওয়া পর্যন্ত তাঁরা শুধু আমার নাম জপ করেন। আর আমি ১২৫ কোটি জনগণের স্বপ্ন বাস্তবায়নের কথা চিন্তা করি। কিন্তু আজ পরিস্থিতি বদলেছে। আগে টিভি কিংবা খবরের কাগজ যা পরিবেশন করত তাই আপনাদের নিতে হত। কিন্তু এখন আপনাদের মোবাইল ফোনে গোটা বিশ্বের সমস্ত তথ্য এসে যাচ্ছে। আপনারা যাচাই করতে পারছেন যে কারা সত্যি কথা বলছে আর কারা মিথ্যা কথা বলছে। তিনটি খবরের কাগজে তিনরকম খবর ছাপা হলে আপনাদের যাচাই করা ছাড়া কোন পথও নেই। আর যাচাই করলেই আপনারা বুঝতে পারবেন, কোন টিভি চ্যানেল কিংবা খবরের কাগজ সত্য খবর পরিবেশন করছে। আমি নবীন প্রজন্মের প্রথমবারের ভোটারদের অনুরোধ করব যে আপনারা নিজেদের মোবাইল ফোনে সব তথ্য যাচাই করুন। আপনারা গুগ্‌ল গুরুর ছাত্র। গুগ্‌ল-কে জিজ্ঞাসা করুন – ‘মোদী একথা বলছে, সত্যি কিনা?’। দেখবেন, পাঁচ মিনিটের মধ্যেই জবাব পেয়ে যাবেন।

 

আমি চাই যে দেশের নবীন প্রজন্ম সমস্ত খবরকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করার স্বভাব গড়ে তুলুন। পরিবারতন্ত্র, জাতপাত, সাম্প্রদায়িক হানাহানি, দুর্নীতি দেশের সর্বনাশ করেছে। আপনারা সমস্ত তথ্য যাচাই করে দেখুন কারা আপনাদের এসব কিছু থেকে মুক্তির পথ প্রশস্ত করছে। প্রথমবারের ভোটাররা এটা জানেন না যে জরুরি অবস্থা কি ছিল। গুজরাটের প্রথমবারের ভোটাররা জানেন না যে আগে খাওয়ার সময় বিদ্যুতের আলো ছিল না। আমার মনে পড়ে, ২০০১ সালে যখন প্রথম গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলাম, তখন যাঁরা আমাকে শুভেচ্ছা দিতে এসেছিলেন তারা অনেকেই ফুলের তোড়া হাতে তুলে দিয়ে অনুরোধ করেছিলেন যে সাহেব, একটা কাজ করে দিন। সারাদিন পরিশ্রমের পর যখন সন্ধ্যায় খাবার খাই, তখন যেন বিদ্যুৎ থাকে। আমি তাঁদের সেই অনুরোধকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করেছি। আজ গুজরাটের সর্বত্র ২৪ ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকে। কিন্তু সেই সময় যে শিশুর বয়স তিন বছর ছিল, সে অনুভব করতে পারবে না যে সন্ধ্যা হলেই তার মা-বাবাকে কেমন অন্ধকারে বসবাস করতে হত। সেজন্য নবীন প্রজন্মকে জানাতে হবে কিভাবে ৭০ বছর ধরে দেশে লুন্ঠন চলেছে। এই প্রথম বিগত পাঁচ বছর ধরে কোন সরকার লুন্ঠনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। আমি এই দাবি করছি না যে আমরা সবকিছু করে নিতে পেরেছি। কিন্তু যা করেছি সঠিক পথে করেছি। নিজের চামড়া বাঁচিয়ে করিনি। আমি আপনাদের আশ্বস্ত করছি, আমি থামব না, ক্লান্ত হব না, মিথ্যার সামনে কখনও মাথা নোয়াব না। আমার মাথা শুধু এক জায়গাতেই নত হয়, তা হল ১২৫ কোটি ভারতবাসীর সামনে। আমার রিমোট কন্ট্রোল হল ঐ ১২৫ কোটি ভারতবাসী। আমি তাঁদের জন্য কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েই এগিয়ে চলেছি।

 

আপনাকে আশীর্বাদ দিয়ে যান। আজকের অনুষ্ঠানকে ভিন্নভাবে আয়োজন করার জন্য আমি সাংসদ বন্ধুদের ধন্যবাদ জানাই। এখানকার দলীয় কর্মীদের ধন্যবাদ জানাই, যাঁরা আমাকে প্রশ্ন করেছেন তাঁদেরকে ধন্যবাদ জানাই। বিশেষ করে, মেয়েদেরকে, এই স্ত্রী ক্ষমতায়নকে শুভেচ্ছা জানাই।

 

অনেক অনেক ধন্যবাদ। বন্ধুরা আজকে খুব আনন্দ পেয়েছি। আমি আরেকবার বাইরে যাঁরা দাঁড়িয়ে রয়েছেন তাঁদের কাছে ক্ষমা চেয়ে আমার বক্তব্য সম্পূর্ণ করছি।

 

ভারত মাতার জয়, ভারত মাতার জয়, ভারত মাতার জয়, ভারত মাতার জয়।

বন্দে মাতরম্‌, বন্দে মাতরম্‌, বন্দে মাতরম্‌, বন্দে মাতরম্‌।

 

CG/SB/DM



(Release ID: 1565989) Visitor Counter : 43